বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা কি বদলাচ্ছে? ৩০০ বনাম ৪০০ আসন ও আমাদের ভোটের অধিকার.
বিসমিল্লাহির রাহ মানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমি আপনাদের সাথে দেশের আসন্ন নির্বাচন পদ্ধতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে নিজের কিছু চিন্তা ও বিশ্লেষণ শেয়ার করছি। আমরা অনেকে ভোট দিই, কিন্তু আমাদের ভোটের গাণিতিক হিসাব এবং ক্ষমতার বিন্যাস সম্পর্কে পরিষ্কার জানি না। আজকের আলোচনায় থাকছে— সংসদীয় আসন কেন ৩৫০ থেকে ৪৫০ হওয়ার কথা হচ্ছে এবং এতে আমাদের ভোটের গুরুত্ব কতটুকু।
১. ৩০০ আসনের চিরচেনা নির্বাচন (নিম্নকক্ষ):
আমাদের দেশে বর্তমানে ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোট হয়। আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে ভোট দিচ্ছেন এবং তিনি জয়ী হয়ে আপনার এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন। একে বলা হয় 'নিম্নকক্ষ'। এটি আগের মতোই থাকবে।
২. অতিরিক্ত ১০০ আসন ও উচ্চকক্ষ (Bicameral Parliament):
বর্তমানে আলোচনা চলছে সংসদে আরও ১০০টি আসন বাড়ানোর, যা মূলত 'উচ্চকক্ষ' হিসেবে কাজ করবে। এর বিশেষত্ব হলো:
এখানে সরাসরি কোনো ভোট হবে না।
বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সফল প্রবাসী এবং মেধাবী ব্যক্তিদের এখানে দলগুলো মনোনীত করবে।
এদের কাজ হবে আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া।
৩. আপনার ভোটের নতুন হিসাব (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব):
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—আপনি এলাকায় আপনার পছন্দের প্রার্থীকে যে ভোট দিচ্ছেন, সেই ভোটটি এখন আর নষ্ট হবে না। আগে আপনার প্রার্থী হারলে সেই ভোটের কোনো দাম থাকতো না। কিন্তু নতুন এই ব্যবস্থায় সারা দেশে একটি দল মোট কত শতাংশ ভোট পেল, তার ভিত্তিতে ওই বাড়তি ১০০ আসনের ভাগ পাবে। অর্থাৎ, আপনার এলাকা থেকে প্রার্থী হেরে গেলেও আপনার ভোটটি জাতীয়ভাবে আপনার দলকে শক্তিশালী করবে।
৪. স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যোগ্য মানুষের মূল্যায়ন: একটি নাগরিক ভাবনা
এখানেই আমার একটি বিশেষ চিন্তা আছে। আমাদের চারপাশে অনেক শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক এবং যোগ্য মানুষ আছেন যারা কোনো বড় দলের অধীনে না থেকে ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে লড়তে চান। বর্তমান ব্যবস্থায় তারা হেরে গেলে তাদের পাওয়া হাজার হাজার ভোট কিন্তু ওই ১০০ আসনের গণনায় কোনো কাজে আসে না।
আমার প্রস্তাব: এই বৈষম্য দূর করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি 'কমন পুল' বা জোটবদ্ধ ভোট গণনার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তারা যদি আলাদা দল না-ও করে, তবুও তাদের সম্মিলিত ভোটের হার অনুযায়ী ওই উচ্চকক্ষে (১০০ আসন) তাদের মধ্য থেকে অন্তত কয়েকজন প্রতিনিধি থাকা দরকার। যারা প্রকৃত অর্থে যোগ্য শিক্ষিত দেশপ্রেম আল্লাহকে ভয় করেন তাদেরকে বাছাই করে এই সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে প্রকৃত যোগ্য ও নিরপেক্ষ মানুষেরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ পাবেন এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।
উপসংহার:
আমরা চাই এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি ভোটই মূল্যবান এবং প্রতিটি মেধাবী মানুষের জায়গা হবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। আমি ২০শে জানুয়ারির পর জোট ও প্রতীকের চূড়ান্ত চিত্র দেখেই আমার মূল্যবান ভোটটি দিতে চাই। কারণ ভোট একটি পবিত্র আমানত।
প্রবাসীদের জন্য আমার বিশেষ অনুরোধ আপনারাও ঠিক 20জানুয়ারি তারিখের পরে ভোট দিবেন প্রার্থী নির্ধারণ বা মার্কা চূড়ান্ত হওয়ার পরে আপনারা যার যার ব্যালট সংগ্রহ করে রেখে দেন নির্ধারিত সময়ের পরে আপনার ভোটটি সঠিক নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ার পরে ব্যালটটি পোস্ট অফিসে জমা করে আসবেন পুনরায় এখানে নির্ধারিত কোন ফি বা টাকা দিতে হবে না।
আপনারা কী ভাবছেন? স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কি এই উচ্চকক্ষে কোনো জায়গা থাকা উচিত? নাকি শুধু বড় দলগুলোই সুবিধা পাবে? কমেন্টে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
— (এম জে ইসলাম)🇧🇩

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন